♦এক_ব্রাহ্মণের_কৃষ্ণ_প্রীতি♦
এক সময়ে, একবার অর্জুনের মনে অহংকার হলো যে, তিনিই ভগবানের সবচেয়ে বড় ভক্ত। তাঁর মনের এমন ভাব শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারলেন। তাই তিনি অর্জুনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বেরোলেন।
পথিমধ্যে এক গরীব ব্রাহ্মণের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হলো। সেই ব্রাহ্মণের আচার-আচরণ এতোই অদ্ভূত ছিলো যে, তিনি শুকনো ঘাস খাচ্ছিলেন। অথচ কোমরে একটি তলোয়ারও ঝুলছিলো।
অর্জুন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি তো অহিংসার পূজারি। জীব হিংসার ভয়েই তো শুকনো ঘাস খেয়ে জীবন ধারণ করছেন। তাহলে হিংসার উপকরন রূপে আবার আপনার কাছে তলোয়ার কেনো?"
ব্রাহ্মণ উত্তর দিলেন, "কারণ, আমি কিছু মানুষকে দণ্ডদান করতে চাই।"
অর্জুন বললেন, "আপনার আবার শত্রু কে আছে?"
ব্রাহ্মণ বলললেন, "আমি এমন চার জনকে খুঁজছি, যাদের সাথে আমার অনেক হিসাব বাকি আছে। সব থেকে প্রথমে আমি নারদকে ধরবো। সে আমার প্রভুকে একটু বিশ্রামও করতে দেয় না। সর্বদা ভজন-কীর্তন করে ওনাকে জাগিয়ে রেখে দেয়। এরপর ধরবো দ্রৌপদিকে। তাঁর উপর আমি অনেক ক্রুদ্ধ হয়ে আছি। কারণ সে আমার প্রভুকে এমন সময় ডেকেছিলেন, যখন ভগবান ভোজন করছিলেন। দুর্বাশা মুনির অভিশাপ থেকে পাণ্ডবদের বাঁচাতে। তাই প্রভু খাবার ছেড়ে উঠে এসেছিলেন। আবার তার ধৃষ্টটা দেখো, সে আবার আমার ভগবানকে এঁটো খাবার পর্যন্ত খাইয়েছে।"
অর্জুন বললেন, "আর তৃতীয় শত্রু কে?"
ব্রাহ্মণ বললেন, "সে হলো হৃদয়হীন প্রহ্লাদ। সেই নির্দয়ী তো আমার প্রভুকে নিজের সাথে গরম তেলের কড়াইয়ে প্রবেশ করিয়েছে। হাতির পায়ের তলায় ফেলিয়েছে। আর শেষে তো স্তম্ভ থেকেই প্রকট হতে বিবশ করে দিয়েছে।"
ব্রাহ্মণ আরো বললেন, "আর চতুর্থ শত্রু হলো অর্জুন। তাঁর ধৃষ্টতা দেখো, সে তো আমার ভগবানকে রথের সারথীই বানিয়ে ফেলেছে। ভগবানের অসুবিধা নিয়ে কি একটুও ভেবেছে সে? কতো কষ্ট দিয়েছে আমার প্রভুকে!"
বলতে বলতে ব্রাহ্মণের চোখে জল চলে এলো। ব্রাহ্মণের প্রতিটি বাক্য শুনে এবং তাঁর ভক্তির উচ্চতা দেখে আজ অর্জুনের অহংকার চূর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে গেলো। তিনি শ্রীকৃষ্ণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বললেন,
"বুঝে গিয়েছি প্রভু! না জানি এই সংসারের কোনায় কোনায় কতো ধরনের ভক্ত আছে আপনার। আর আমরা মিছেই নিজেকে ভক্ত ভাবার গর্বে ফুলে-ফেঁপে উঠি।"#শুভরাত্রি

0 Comments